Creating the largest source of information on liberation war of Bangladesh. We have just started collecting data. Please, don't use this for any reference.
শেল এসে পড়ল তাঁর বাংকারের পাশে
একদিকে বৃষ্টি, অন্যদিকে সারা রাত জাগার ক্লান্তি। সব উপেক্ষা করে নূরুল ইসলাম বাংকারে বসে আছেন। তিনি একা নন, তাঁর সঙ্গে আছেন আরও অনেক মুক্তিযোদ্ধা। তাঁদের এই অপেক্ষা শত্রু পাকিস্তানি সেনাদের জন্য। এলাকাজুড়ে একটা থমথমে অবস্থা। পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বিশাল একটি দল মুক্তিযোদ্ধাদের দখলে থাকা এলাকা পুনর্দখলের জন্য আক্রমণ শুরু করেছে। কয়েক দিন ধরে শুরু হয়েছে তাদের আর্টিলারির গোলাবর্ষণ। আগের রাতে পাকিস্তানিরা নূরুল ইসলামদের অবস্থানে অবিরাম গোলাবর্ষণ করেছে। কিন্তু তাঁরা সেসব উপেক্ষা করে তাঁদের অবস্থান ধরে রেখেছেন।
যুদ্ধ করা মানে সরাসরি আত্মাহুতি
১৯৭১ সাল। ১৪ এপ্রিল। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার গঙ্গাসাগর এলাকা। সেখানে বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়েছেন একদল মুক্তিযোদ্ধা। ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট ও ইপিআর সেনার সমন্বয়ে গড়া মুক্তিবাহিনীর কয়েকটি ছোট ছোট দল। একটি প্লাটুনে আছেন মতিউর রহমান। তাঁর দলের অবস্থান দক্ষিণ পাড়ে। তাঁদের অবস্থানের ডানে রেললাইন। কাছেই তিতাস নদ। আর শত্রু পাকিস্তানি সেনাদের অবস্থান মোগরাবাজারে। তাঁরা একদম শত্রুসেনার মুখোমুখি। মাঝখানে ব্যবধান আনুমানিক দেড়-দুই শ গজ। পরদিন খুব ভোর থেকে সেখানে শুরু হলো যুদ্ধ। থেমে থেমে চলল কয়েক দিন।
Submitted by Rhidi joyee on Tue, 2011/05/31 - 5:38am
Dateline:
Wed, 1972/05/31 - 5:22am
indian Army Officers examine a pile of rifles taken from surrendered Pakistani troops in the military action that separated East Pakistan from West Pakistan, and created the state of Bangladesh. 1971.
বিদ্যুৎকেন্দ্রে গোপনে বিস্ফোরক নেন
১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তান সেনাবাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করেছে। দেশ স্বাধীন। কিন্তু কয়েক স্থানে পাকিস্তান সেনাবাহিনী ও তাদের সহযোগী সশস্ত্র অবাঙালিরা (বিহারি) আত্মসমর্পণ করেনি। নারায়ণগঞ্জ জেলার আদমজী পাটকলে অবস্থানরত সশস্ত্র অবাঙালিরা বারবার অনুরোধ জানানো সত্ত্বেও আত্মসমর্পণ করল না। এভাবে কেটে গেল কয়েক দিন। মুক্তিযোদ্ধারা ঘেরাও করে আছেন এলাকাটি। মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে নূরুল হকও আছেন।
১৯৭১ সালের ১৬ আগস্ট ভোরে চাঁদপুর নৌবন্দরে অপারেশন শেষে শাহজাহান কবীরসহ অন্য নৌকমান্ডোরা বেশ বিপদেই পড়লেন। তাঁদের ফেরার পথে বিশাল জাহাজ ‘গাজী’ নদীর পাড় ঘেঁষে প্রেতচ্ছায়ার মতো ভেসে আছে। সেটা দেখে তাঁরা কিছুটা কিংকর্তব্যবিমূঢ়। এর সামনে দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা মানে সাক্ষাৎ যমের সামনে পড়া। আর ঠিক তখনই বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হতে থাকল তাঁদের লাগানো মাইনগুলো। দ্রুত ওখান থেকে পালাতে হবে। কিন্তু বিশৃঙ্খল এক অবস্থা তাঁদের মধ্যে।
পাকিস্তানি সেনারা পালিয়ে গেল
যশোর জেলার চৌগাছা উপজেলার বর্ণী বিওপি। সেখানে ছিল পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর শক্ত একটি ঘাঁটি। ছিল প্রায় ৭৫ জন পাকিস্তানি সেনা। ওই ঘাঁটির কারণে মুক্তিযোদ্ধারা দেশের অভ্যন্তরে সহজে অপারেশন করতে পারছিলেন না। আগস্ট মাসের প্রথম দিকে (ক্যাপ্টেন) খন্দকার নাজমুল হুদা সিদ্ধান্ত নিলেন সেখানে আক্রমণের। ৫ আগস্ট দুই কোম্পানি মুক্তিযোদ্ধা তাঁর নেতৃত্বে আক্রমণ চালায়। তাঁর পণ, পাকিস্তানিদের সেখান থেকে তাড়াবেনই। শেষ পর্যন্ত তিনি তাঁর পণ রক্ষা করলেন। মুক্তিবাহিনীর তীব্র আক্রমণের মুখে পাকিস্তানি সেনারা তাদের ১৫ জনের লাশ ফেলে রেখেই পালিয়ে গেল।
সহযোদ্ধাদের কথা বারবার মনে পড়ে
মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি প্রায়ই মনে পড়ে সৈয়দ রেজওয়ান আলীর। মনে পড়ে অনেক যুদ্ধের ঘটনা, সহযোদ্ধাদের মুখ। তাঁদের কেউ যুদ্ধক্ষেত্রে শহীদ, কেউ আহত হয়েছেন। এখন বিশেষ করে মনে পড়ছে সহযোদ্ধা রইসউদ্দীন (তিনি পাকিস্তান বিমানবাহিনীতে চাকরি করতেন, ফরিদপুরে বাড়ি) ও আরও দুজন সহযোদ্ধার কথা। একটি সেতু ধ্বংসের অপারেশনে তাঁরা শহীদ হয়েছেন। তাঁদের লাশ তাঁরা উদ্ধার করতে পারেননি। এই স্মৃতি তাঁকে এখনো পীড়া দেয়। বারবার মনে পড়ে।
একঝাঁক গুলি এসে লাগল তাঁর শরীরে
অন্ধকারে শত্রু পাকিস্তানিদের অবস্থান লক্ষ্য করে আবদুস সোবহান ও তাঁর আরও কয়েকজন সহযোদ্ধা নিক্ষেপ করলেন বেশ কটি হ্যান্ড গ্রেনেড। অন্য সহযোদ্ধারা একযোগে গুলি। হ্যান্ড গ্রেনেডের বিস্ফোরণ ও গুলির শব্দে হকচকিত শত্রু। তারপর শত্রুর দিক থেকেও বৃষ্টির মতো পাল্টা গুলি।
উড়ে গেল বিদ্যুৎকেন্দ্র
বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিদ্যুচ্চমকের মতো এক ঝলক আলো দেখা গেল। তারপর প্রচণ্ড এক বিস্ফোরণ। একটু পর আরও কয়েকটি। কেঁপে উঠল গোটা এলাকা। বিস্ফোরণস্থলে কালো ধোঁয়া আর আগুন। বিদ্যুতের সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেল। ঢাকা শহরের একাংশ অন্ধকার।
ফেরিঘাটে প্রহরায় পাকিস্তানি সেনা আর তাদের সহযোগীরা। পাশেই তাদের ক্যাম্প। নৌ কমান্ডো শাহজাহান সিদ্দিকী ও তাঁর সহযোদ্ধারা পাকিস্তানিদের চোখ ফাঁকি দিয়ে লিমপেট মাইন লাগালেন দুটি ফেরি আর পন্টুনে। তারপর সাঁতার কেটে রওনা হলেন স্রোতের উজানে, নদীর উত্তর দিকে পূর্ব পাড়ে। নৌ কমান্ডোরা ছইওয়ালা নৌকার কাছে যখন পৌঁছালেন, তখন রাত আনুমানিক দুইটা ৪০ মিনিট। এর একটু পর শুরু হলো একের পর এক বিস্ফোরণ।
২৬ নভেম্বর। ১৯৭১। সিলেট জেলার কানাইঘাট এলাকা। শীতের ভোর। আনুমানিক সাড়ে চারটা বা পাঁচটা। চারদিকে সুমসাম নীরবতা। এমন সময় প্রচণ্ড গোলাগুলি। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ৩১ পাঞ্জাব রেজিমেন্ট অতর্কিতে আক্রমণ চালিয়েছে মুক্তিবাহিনীর প্রথম ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টের ডেলটা কোম্পানির একাংশের ওপর। তাদের আক্রমণে মুক্তিবাহিনীর ডেলটা কোম্পানির ১১ নম্বর প্লাটুন (এটি গৌরীপুরের সর্বদক্ষিণে ছিল) প্রায় বিধ্বস্ত হয়ে গেল। এই প্লাটুনের নেতৃত্বে ছিলেন সুবেদার মুসা। তাঁর বাঁ দিকে কয়েক শ মিটার দূরে অবস্থানে ছিলেন লেফটেন্যান্ট ওয়াকার হাসান। তিনি ওয়্যারলেসে খবর পেয়ে ২৩-২৪ জন মুক্তিযোদ্ধাকে নিয়ে ঝোড়োগতিতে ১১ নম্বর প্লাটুনের অবস্থান
আকাশে ভটভট শব্দ। মুক্তিবাহিনীর একটি হেলিকপ্টার আকাশে চক্কর দিয়ে বারবার খুব নিচে নেমে আসছে। পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে আক্রমণ করছে। নিচে তীব্র গোলাগুলি, আর্তনাদ আর চিৎকার। চারদিকে কুণ্ডলী পাকানো ধোঁয়া। পাকিস্তানি সেনাদের ছোটাছুটি। পাকিস্তানিরা চেষ্টা করছে হেলিকপ্টারটি ধ্বংস করার। হেলিকপ্টারে আছেন সাহাবউদ্দিন আহমেদ, বদরুল আলম ও একজন গানার।
ফেনী জেলার প্রত্যন্ত গ্রাম পূর্ব অলকা। এই গ্রামে একটি পুকুরপাড়ে গাছপালার নিচে কয়েকটি কবর। একটু দূরে আরেকটি কবর। সেটি চিহ্নিত। কিন্তু বেশ অবহেলা ও অযত্নের ছাপ। এই কবরে যিনি শায়িত তিনি খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা। মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছেন। সিকান্দার আহমেদ বীর প্রতীকের কবর সেটি।
Recent comments
14 weeks 4 days ago
14 weeks 4 days ago
14 weeks 4 days ago
14 weeks 4 days ago
14 weeks 4 days ago
14 weeks 4 days ago
14 weeks 4 days ago
14 weeks 4 days ago
14 weeks 4 days ago
14 weeks 4 days ago